হাকালুকি হাওরপারে ‘আফাল’ আতঙ্ক
![]() |
| বাঁশ, কচুরিপানা দিয়ে আফাল থেকে ঘরের মাটির ভিটা, বেড়া টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন হাকালুকি হাওরপারের বাসিন্দারা। শনিবার মৌলভীবাজারের বড়লেখার হাকালুকিপারের তালিমপুর ইউনিয়নের মুর্শিবাদকুরা গ্রামে |
মুর্শিবাদকুরা গ্রামের বাসিন্দা মরিয়ম বিবি বলেন, ‘পানিবন্দী আছি। দিন আমরার যেমন-তেমন কাটে। রাতে আতঙ্কে থাকি। ঘুম আয় (আসে) না। রাতে আফাল ওঠে বেশি। আর সাপের ডর (ভয়) তো আছেই।’ আরও অনেকের মতো ঘরের আশপাশ আফাল (ঢেউ) থেকে বাঁচাতে বাঁশ ও কচুরিপানা দিয়ে বেষ্টনী তৈরি করেছেন তিনি।
এ রকম পরিস্থিতি শুধু তাঁদেরই না। হাওরপারের বড়ময়দান গ্রামের জিলই বেগম, ফখর উদ্দিন, মুর্শিবাদকুরা গ্রামের চিমিনা বেগম, মারজানা বেগম জানিয়েছেন, তাঁদের সবার বাড়িঘরই আফালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হাকালুকি হাওরে বর্ষাকালে এমনিতেই বিশাল ঢেউ ওঠে। কিন্তু এই ঢেউ সরাসরি তেমন ক্ষতি করতে পারে না। হাওরপারের মানুষ এ রকম পানি ও আফালের সঙ্গে জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তবে বন্যার সময় তারা বিপদে পড়েন। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় সেই ঢেউ সরাসরি ঘরে আছড়ে পড়ে। এতে কাঁচা বাড়িঘরের মাটির ভিটা, মাটির বেড়া ভেঙে যায় ও ভেসে যায়। এ কারণে আতঙ্ক আর ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটে তাঁদের।
| বন্যার সময় হাওরের বড় বড় ঢেউ সরাসরি আছড়ে পড়ে এসব বসতঘরে। মৌলভীবাজারের বড়লেখার হাকালুকিপারের তালিমপুর ইউনিয়নের মুর্শিবাদকুরা গ্রামে |
তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি হাওরপারের মুর্শিবাদকুরা, বড়ময়দান, পশ্চিম গগড়া, পূর্ব গগড়াসহ বেশির ভাগ গ্রামেই আফালের আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ১৫ জুন থেকে হাকালুকি হাওরপারে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই-তিন দিন ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু সোমবার রাতে বৃষ্টি হওয়ায় আবার পানি কিছুটা বেড়েছে।
তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস প্রথম আলোকে বলেন, এবার আফাল এখনো তুলনামূলক কম। সোমবার বিকেলে বাতাসের কারণে কিছুটা ঢেউ দেখা গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে বাতাস দিলেই আফাল ওঠে। তখন মাটির ঘর, দেয়াল ধসে পড়ে। তিনি বলেন, তালিমপুর ইউনিয়নের প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ পানিবন্দী। অনেকে আছেন আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চায় না। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে থাকছেন। এক হাত পানি কমলে মানুষ চলাচলের সুযোগ পেত।

0 Comments