![]() |
| রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। |
(রংপুর প্রতিনিধি ) পুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, রংপুর রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল বাতেন, এবং রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান। মামলাটি দায়ের করেছেন নিহত আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী।
আবু সাঈদ কোটা সংস্কারের দাবিতে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই এই আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশে এবং তাদের উপস্থিতিতে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মামলার ভিত্তিতে এখন তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা থেকে হয়তো বিচারের পথ খুলে যেতে পারে।
এই মামলার মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার প্রতি নতুন করে নজরদারি শুরু হবে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার, আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী রংপুরের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালতের বিচারক রাজু আহমেদ মামলাটি গ্রহণ করার জন্য তাজহাট থানাকে নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, রংপুর রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল বাতেন, এবং রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ আরও ১৪ জন। মামলার বাদীর পক্ষের আইনজীবীরা রায়হান কবীর ও রোকনুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবু সাঈদ ছিলেন কোটা সংস্কারের দাবিতে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক, যিনি ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন। মামলাটি গৃহীত হওয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের প্রক্রিয়া নতুন মাত্রা পাবে।
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাদী রমজান আলী অভিযোগ করেন যে, তার ভাই আবু সাঈদ নিরস্ত্র অবস্থায় ছিলেন এবং পুলিশের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করেননি। গত ১৬ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করেছে।
মামলায় বলা হয়েছে, ঘটনার দিন বেলা দুইটার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়ার নেতৃত্বে ছাত্রছাত্রীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। আবু সাঈদ তখন পিছু না হটে দুই হাত প্রসারিত করে এগিয়ে যান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা রাফিউল হাসান হেলমেট পরে এসে পুলিশের সামনে উপস্থিত হন এবং ‘গুলি করুন, গুলি করুন’ বলে নির্দেশ দেন। অপর দুই শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডল পুলিশকে গুলি করার জন্য প্ররোচিত করেন।
এই মামলাটি দায়ের করার পর থেকে আদালতে ও সমাজে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে নতুন করে উন্মোচন করতে পারে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে দেশের মানুষ ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। গত ১৬ জুলাই নিরস্ত্র অবস্থায় থাকা আবু সাঈদকে পুলিশের গুলিতে নিহত করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, তা দ্রুতই জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করে। এই ঘটনা কেন্দ্র করে কোটা সংস্কার আন্দোলন দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করে, যা পরবর্তীতে সরকার বিরোধী এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।
আন্দোলন ক্রমে গণ-আন্দোলনের রূপ নিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের দিকে গড়ায়। জনতার চাপের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন।
মামলার বাদী রমজান আলী প্রথম আলোকে জানিয়েছেন যে, তাঁর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, এবং তাঁরা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় এই মামলা করেছেন। তিনি আরও জানান, জনগণের ব্যাপক প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়ার কারণে এই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তারা আশা করছেন যে, বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

0 Comments