‘ঘরটাও গেল, খামারও গেল, নিঃস্ব হয়ে গেলাম’
প্রতিবেদন:
কুড়িগ্রাম, ২৪ আগস্ট ২০২৪: কুড়িগ্রামের রমিজ উদ্দিন নামের এক কৃষক, যিনি তার পৈতৃক জমিতে খামার গড়ে তুলেছিলেন, এখন বন্যার তীব্রতায় সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এক মাসব্যাপী বন্যার আঘাতে তার ঘরবাড়ি, খামার, এবং সম্পূর্ণ জীবিকা সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে।
রমিজ উদ্দিন বলেন, "আমার ঘরটাও গেল, খামারও গেল, নিঃস্ব হয়ে গেলাম। বন্যার পানি এত দ্রুত বাড়ল যে কিছুই বাঁচানোর সুযোগ পেলাম না।"
ঘরবাড়ির ধ্বংস
বন্যার পানিতে রমিজ উদ্দিনের কাঁচা বাড়িটি একেবারে ভেঙে পড়েছে। বন্যার শুরুতে তিনি চেষ্টা করেছিলেন কিছু আসবাবপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নিতে, কিন্তু পানির তীব্র স্রোত এবং দ্রুত বৃদ্ধি সবকিছুই মুহূর্তে লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এখন তার থাকার জায়গা বলতে কিছুই নেই।
খামারের ক্ষতি
রমিজ উদ্দিনের খামারে ছিল প্রায় ৫০টি হাঁস-মুরগি, ১০টি গরু এবং কয়েক একর জমির ফসল। বন্যার তাণ্ডবে তার খামারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফসলের মাঠে এখন শুধু পানি আর পচা গাছের দেহ। গবাদি পশুগুলোও বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে।
আশ্রয়হীনতা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
রমিজ উদ্দিন ও তার পরিবার বর্তমানে গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, যা এখন একটি অস্থায়ী ত্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
“আমার ঘরবাড়ি ও খামার ছিল আমাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। এখন কীভাবে বাঁচব, সেটা ভাবতেই পারছি না,” কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন রমিজ উদ্দিন।
সরকারি সহায়তার আহ্বান
রমিজ উদ্দিনের মতো আরও অনেক পরিবার এই বন্যায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারকে তাদের পুনর্বাসনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, "আমরা চেষ্টা করছি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে, তবে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে সরকারি সাহায্য ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়।"
উপসংহার
বন্যার করাল গ্রাসে রমিজ উদ্দিনের মতো হাজারো কৃষক আজ নিঃস্ব। এই কঠিন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন যাতে তারা আবার তাদের জীবনকে পুনর্গঠন করতে পারে।

0 Comments