‘নিত্যপণ্যের দাম না কমলে মানুষ আবার রাস্তায় নামবে’
নিত্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, শাকসবজি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা চরম কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছেন। বাজারে প্রতিদিন পণ্যের দামের পরিবর্তন হলেও, আয় বাড়ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে।
বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে জনগণ বাধ্য হবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে। একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের কণ্ঠকে সরকারের কানে পৌঁছানোর চেষ্টা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কথা বলে জানা যায়, ক্রেতারা প্রতিনিয়ত নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ। এক গৃহিণী জানান, "আগে যে বাজেটে এক মাসের বাজার করতে পারতাম, এখন সেটাতে ১৫ দিনের বাজারও করতে পারছি না।" একইভাবে একজন দিনমজুর বলেন, "আমাদের আয়ের তুলনায় বাজারের দাম অনেক বেশি। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।"
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি সরকারকে দায়ী করে বলছে যে, সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই বাজারের এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনরোষ বাড়বে এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নামবে বলে সতর্ক করেছে।
বিরোধী দলের এক নেতা বলেন, "মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে মানুষ আর ঘরে বসে থাকবে না, রাস্তায় নেমে নিজেদের দাবি আদায় করবে।"
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ না আসলে, দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

0 Comments